কুলুখ ব্যবহারের নিয়ম পদ্ধতি

 কুলুখ ব্যবহারের নিয়ম পদ্ধতি

প্ৰস্রাব-পায়খানার পরে শুধুমাত্র পানি দ্বারা ধুলেই পবিত্রতা হাসিল করা যায় সত্য; কিন্তু তবুও ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের প্রয়োজন আছে। প্রস্রাবের ক্ষেত্রে কুলুখ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এক কারণে এবং পায়খানার ক্ষেত্রে কুলুখের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন কারণে।


স্ত্রীলোকের অবশ্য প্রস্রাবের সময় কুলুখ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই যেহেতু তাদের সমস্ত প্রস্রাব একবারে বের হয়ে আসে। অতএব, প্রস্রাবের পরে পানি দিয়ে ধৌত করলেই পবিত্রতা হাসিল হয়; কিন্তু পুরুষের মূত্রনালীর ভেতরে কতগুলো প্যাঁচ থাকার কারণে তাদের প্রস্রাব হওয়ার পরও কিছু মূত্র ঐ প্যাঁচে আটকে থাকে এবং তা ধীরে ধীরে ফৌটা ফৌটা করে বের হতে থাকে। এজন্য পুরুষের প্রস্রাবের পরও কিছু সময় বসে থাকতে হয়। বসা অবস্থায় গলা খাকরান কিংবা জোরে জোরে কাশি দিলে আটকানাে মূত্র তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসে। এজন্য কিছু সময় ওঠা-বসা করা অথবা পদচারণা করা বা এক পায়ের সাথে অন্য পায়ের প্যাঁচ দেয়া ইত্যাদি কাজগুলো করা যেতে পারে। তাতে যে মূত্র ফোঁটা বের হয়ে আসবে, তা কুলুখে শোষণ করে নেবে। এভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হবার পর যখন মনে হবে, ভেতরে আর প্রস্রাব নেই, তখন পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবে।


পায়খানার ক্ষেত্রে কুলুখ নেয়ার কারণটি আলাদা; সুতরাং পায়খানার পরে পুরুষ-স্ত্রী উভয়েরই কুলুখ ব্যবহার করা দরকার। মল একটি দুর্গন্ধযুক্ত জঘন্য পদার্থ। পায়খানা করার পর মলদ্বারের মুখে বা তার আশে পাশে যে মল লেগে থাকে, সরাসরি তাতে হাত লাগিয়ে পানি দিয়ে ধৌত করা যেমনি একটি রুচিগর্হিত কাজ, তেমনি মন্দ কাজও বটে। যেহেতু ঐ মল হাতে লাগলে সহজে তার দুর্গন্ধ হাত হতে দূর হয় না। এজন্যই নারী পুরুষ প্রত্যেকের পায়খানা করার পরে পানি ব্যবহারের পূর্বে কুলুখ ব্যবহার করা আবশ্যক।


কুলুখ সর্বনিম্ন তিনটি হতে সর্বোচ্চ সাতটি পর্যন্ত প্রয়ােজনানুসারে ব্যবহার করবে। তবে বেজােড় সংখ্যা হওয়া বাঞ্ছনীয়।


গ্রীষ্মকালে পুরুষগণ প্রথম কুলুখটি সম্মুখ দিক থেকে টেনে পিছনের দিকে নেবে। দ্বিতীয়টি তার উল্টো এবং তৃতীয়টি দ্বিতীয়টির উল্টো নিবে।


শীতকালে পুরুষগণ এর বিপরীত করবে। ইচ্ছা করলে তার অনুরূপ করতে পারে। গ্রীষ্মকালে পুরুষদের এরূপ কুলুখ ব্যবহারের কারণ হলো, ঐ সময় অণ্ডকােষ কিছুটা ঝুলে থাকে। কাজেই প্রথম ঢিলাটি সম্মুখ হতে পেছনে না নিয়ে যদি পেছন হতে সম্মুখ দিকে আনা হয়, তবে ঢিলায় লাগানো ময়লা অন্ডকােষে লেগে যেতে পারে। কিন্তু শীতকালে অণ্ডকোষ যেহেতু সঙ্কুচিত থাকে, কাজেই তখন যে কােনভাবে কুলুখ ব্যবহার করা যায়, এতে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।


আর স্ত্রীলোকদের যেহেতু পুরুষের মত কোন অসুবিধা নেই, যেহেতু তারা প্রথম কুলুখ অগ্রপশ্চাত বা যে কোন দিক হতে ব্যবহার করতে পারে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!