![]() |
| থ্যালাসেমিয়ার কারণ |
থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) একটি বংশগত রক্তের রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে সুস্থ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন, যা শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন বহন করে। থ্যালাসেমিয়ার কারণে রোগীর শরীরে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিলতা তৈরি হয়।
---
⚠️ থ্যালাসেমিয়ার কারণ
এটি একটি জেনেটিক রোগ। বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকে ত্রুটিপূর্ণ জিন উত্তরাধিকারসূত্রে পেলে শিশুর থ্যালাসেমিয়া হয়।
যদি বাবা বা মা একজন বাহক (Carrier) হন তবে সন্তান বাহক বা সুস্থ হতে পারে।
বাবা-মা উভয়ই বাহক হলে সন্তানের ২৫% ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া মেজর হতে পারে।
---
🩺 থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ
লক্ষণগুলো রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
সবসময় দুর্বলতা ও ক্লান্তি
শরীরের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
শ্বাসকষ্ট
পেটের ভেতরে প্লীহা ও যকৃত বড় হয়ে যাওয়া
হাড় বিকৃতি (বিশেষ করে মুখমণ্ডল ও মাথায়)
বৃদ্ধি ও বুদ্ধি বিকাশে বিলম্ব
বারবার সংক্রমণ হওয়া
---
🧬 থ্যালাসেমিয়ার ধরন
1. থ্যালাসেমিয়া মাইনর – হালকা মাত্রার, রোগী সাধারণত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
2. থ্যালাসেমিয়া মেজর – গুরুতর ধরনের, নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও চিকিৎসা প্রয়োজন।
3. থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমিডিয়া – মাঝারি মাত্রার, কখনো রক্ত সঞ্চালন দরকার হয়।
---
🛡️ থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা
নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন (Blood Transfusion) – রক্তশূন্যতা দূর করতে প্রয়োজন।
Iron Chelation Therapy – বারবার রক্ত নেওয়ার কারণে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে যায়, সেটি কমাতে বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
Bone Marrow Transplant (BMT) – একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা, তবে ব্যয়বহুল।
ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট – রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।
সংক্রমণ প্রতিরোধ – ভ্যাকসিন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন জরুরি।
---
👨⚕️ থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে করণীয়
বিয়ে-পূর্ব রক্ত পরীক্ষা করুন (Carrier Screening)।
বাহক হলে বাহকের সঙ্গে বিয়ে না করাই উত্তম।
সচেতনতা বৃদ্ধি ও গণসচেতনতা কর্মসূচি চালু রাখা।
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত পরিবারে নতুন সন্তান নেয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
---
✅ উপসংহার
থ্যালাসেমিয়া একটি গুরুতর বংশগত রোগ হলেও সচেতনতা, সঠিক রক্ত পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। সবারই উচিত বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই জটিল রোগ থেকে রক্ষা করা যায়।
---
