![]() |
| স্ট্রোকের কারণ |
স্ট্রোক (Stroke) হলো একটি প্রাণঘাতী চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটে। ফলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে মারা যেতে শুরু করে। এটি দ্রুত চিকিৎসা না করলে স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যু ঘটাতে পারে।
---
⚠️ স্ট্রোকের কারণ
স্ট্রোক সাধারণত দুইভাবে হতে পারে:
1. ইসকেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke) – মস্তিষ্কে রক্তনালী ব্লক হয়ে গেলে।
2. হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke) – মস্তিষ্কে রক্তনালী ফেটে রক্তক্ষরণ হলে।
প্রধান কারণগুলো হলো:
উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
উচ্চ কোলেস্টেরল
স্থূলতা
ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন
মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
বংশগত কারণ
---
🩺 স্ট্রোকের লক্ষণ
স্ট্রোকের লক্ষণ হঠাৎ দেখা দেয় এবং দ্রুত অবনতি ঘটে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
শরীরের এক পাশ হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল হওয়া
কথা বলতে বা বুঝতে অসুবিধা
চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টি হারানো
হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে না পারা
প্রচণ্ড মাথা ব্যথা
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
👉 লক্ষণ মনে রাখার সহজ কৌশল হলো FAST:
F – Face drooping (মুখ বাঁকা হওয়া)
A – Arm weakness (হাত অবশ হয়ে যাওয়া)
S – Speech difficulty (কথা অস্পষ্ট হওয়া)
T – Time to call doctor (সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকুন)
---
🛡️ স্ট্রোকের প্রতিকার ও চিকিৎসা
স্ট্রোকের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন ও তীব্রতার উপর।
ইসকেমিক স্ট্রোকের চিকিৎসা: ব্লক খুলতে থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
হেমোরেজিক স্ট্রোকের চিকিৎসা: রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে অস্ত্রোপচার বা বিশেষ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
পুনর্বাসন থেরাপি: ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি ও জীবনযাপনের পরিবর্তন প্রয়োজন।
---
👨⚕️ স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়
নিয়মিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করুন।
সুষম খাবার খান (শাকসবজি, ফলমূল, কম চর্বিযুক্ত খাবার)।
লবণ কম খান।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমান।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
---
✅ উপসংহার
স্ট্রোক একটি গুরুতর রোগ, তবে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেকোনো স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
---
