![]() |
| ম্যালেরিয়ার কারণ |
ম্যালেরিয়া (Malaria) হলো একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ যা প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামক পরজীবী দ্বারা হয়ে থাকে। এই পরজীবী সাধারণত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা (Female Anopheles Mosquito) এর কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
বিশ্বের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর দেশগুলোতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশেও বর্ষাকালীন সময়ে এই রোগ বেশি ছড়ায়।
---
⚠️ ম্যালেরিয়ার কারণ
স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়
অপরিষ্কার পরিবেশে বসবাস
জলাবদ্ধতা ও মশার প্রজনন ক্ষেত্র বৃদ্ধি
সংক্রমিত রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে
দূষিত সূঁচ ব্যবহারের মাধ্যমে
---
🩺 ম্যালেরিয়ার লক্ষণ
ম্যালেরিয়ার লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ১০-১৫ দিনের মধ্যে দেখা যায়। এর মধ্যে প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
হঠাৎ জ্বর আসা ও ঠান্ডা লাগা
প্রচণ্ড মাথা ব্যথা
ঘাম হওয়া
শরীরে ব্যথা ও দুর্বলতা
বমি বা বমিভাব
রক্তস্বল্পতা (Anemia)
লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া
মারাত্মক ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়া
---
🛡️ ম্যালেরিয়ার প্রতিকার ও চিকিৎসা
ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে কোন প্রকার প্লাজমোডিয়াম দ্বারা সংক্রমণ হয়েছে তার ওপর। চিকিৎসকের পরামর্শে নিচের ওষুধ ব্যবহার করা হয়:
1. অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ – যেমন ক্লোরোকুইন, কুইনাইন, আর্টেমিসিনিন-ভিত্তিক কম্বিনেশন থেরাপি (ACT)।
2. জ্বর ও ব্যথা কমানোর ওষুধ।
3. প্রচুর বিশ্রাম ও তরল খাবার গ্রহণ।
4. গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্যালাইন ও ইনজেকশন চিকিৎসা।
---
👨⚕️ ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে করণীয়
মশারি ব্যবহার করুন, বিশেষ করে কীটনাশকযুক্ত মশারি।
ঘরের আশেপাশে পানি জমে থাকতে দেবেন না।
মশা নিরোধক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করুন।
গায়ে হালকা রঙের পোশাক পরুন।
ম্যালেরিয়া আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণের আগে প্রতিরোধমূলক ওষুধ সেবন করুন।
---
✅ উপসংহার
ম্যালেরিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, মশা নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতার মাধ্যমেই এ রোগ থেকে বাঁচা সম্ভব। তবে জ্বর, ঠান্ডা লাগা ও বমিভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
---
