![]() |
| ব্লাড ক্যান্সার: কারণ |
ব্লাড ক্যান্সার (Blood Cancer) হলো রক্ত বা অস্থিমজ্জায় (Bone Marrow) অস্বাভাবিকভাবে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি। এটি শরীরের সুস্থ রক্তকণিকাকে নষ্ট করে দেয়, ফলে শরীরে রক্ত উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
ব্লাড ক্যান্সার সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে:
1. লিউকেমিয়া (Leukemia) – রক্তে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধি।
2. লিম্ফোমা (Lymphoma) – লিম্ফ নোড বা লিম্ফাটিক সিস্টেমে ক্যান্সার।
3. মাল্টিপল মাইলোমা (Multiple Myeloma) – অস্থিমজ্জায় প্লাজমা সেলের ক্যান্সার।
---
⚠️ ব্লাড ক্যান্সারের কারণ
ব্লাড ক্যান্সারের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে কিছু ঝুঁকির কারণ হলো:
বংশগত কারণ বা জিনগত ত্রুটি
অতিরিক্ত বিকিরণ (Radiation) এর সংস্পর্শ
ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ (যেমন Benzene)
ধূমপান ও অ্যালকোহল
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
পূর্বের ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন
---
🩺 ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ
অকারণে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
শরীরে অল্পতেই রক্তক্ষরণ বা চাকা পড়ে যাওয়া
ঘন ঘন সংক্রমণ (Infection)
হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা
ওজন দ্রুত কমে যাওয়া
লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া
শরীরে ঘাম বেশি হওয়া, বিশেষত রাতে
জ্বর লেগে থাকা
---
🛡️ ব্লাড ক্যান্সারের প্রতিকার ও চিকিৎসা
ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা রোগীর অবস্থা ও ক্যান্সারের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
1. কেমোথেরাপি (Chemotherapy) – ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ঔষধ ব্যবহার।
2. রেডিয়েশন থেরাপি (Radiation Therapy) – উচ্চ ক্ষমতার রশ্মি দিয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা।
3. স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট (Stem Cell Transplant) – ক্ষতিগ্রস্ত অস্থিমজ্জা পরিবর্তন করে নতুন স্টেম সেল প্রতিস্থাপন।
4. টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy) – বিশেষ ওষুধের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষকে আক্রমণ করা।
5. ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy) – রোগীর শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
---
👨⚕️ ব্লাড ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন (ফল, সবজি, শস্যজাত খাবার বেশি খান)।
রাসায়নিক পদার্থ ও বিকিরণ থেকে দূরে থাকুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যায়াম করুন।
---
✅ উপসংহার
ব্লাড ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ হলেও আধুনিক চিকিৎসা ও সচেতনতার কারণে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
---
🟢
