![]() |
| হার্নিয়ার কারণ |
হার্নিয়া (Hernia) হলো এমন একটি শারীরিক সমস্যা যেখানে শরীরের কোনো অঙ্গ বা টিস্যু আশেপাশের দুর্বল বা ছিদ্রযুক্ত পেশি বা টিস্যুর ভেতর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এটি সাধারণত পেট বা কুঁচকির অংশে দেখা যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
---
⚠️ হার্নিয়ার কারণ
হার্নিয়ার মূল কারণ হলো শরীরের পেশি বা টিস্যুর দুর্বলতা। সাধারণ কিছু কারণ হলো:
জন্মগতভাবে পেশির দুর্বলতা থাকা
বারবার ভারী জিনিস তোলা
দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা হাঁচি
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা
বয়স বৃদ্ধির কারণে পেশির দুর্বলতা
সার্জারি পরবর্তী জায়গা দুর্বল হয়ে যাওয়া
---
🩺 হার্নিয়ার লক্ষণ
হার্নিয়ার লক্ষণ স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
পেট বা কুঁচকিতে ফোলা বা গিঁটের মতো দেখা যাওয়া
ফোলা অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি
ভারী কাজ করলে বা কাশি দিলে ফোলা জায়গা বড় হওয়া
শুয়ে থাকলে ফোলা কিছুটা কমে আসা
কখনও কখনও বমি, বমি ভাব বা পেট ব্যথা হওয়া
👉 যদি হার্নিয়া আটকে যায় (Strangulated Hernia), তখন ফোলা অংশ শক্ত ও ব্যথাযুক্ত হয় এবং রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।
---
🧬 হার্নিয়ার প্রকারভেদ
1. ইনগুইনাল হার্নিয়া – কুঁচকির অংশে হয় (পুরুষদের বেশি দেখা যায়)।
2. ফেমোরাল হার্নিয়া – উরুর উপরের অংশে হয় (মহিলাদের বেশি হয়)।
3. আমবিলিকাল হার্নিয়া – নাভির চারপাশে হয় (শিশু ও নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়)।
4. ইনসিশনাল হার্নিয়া – অপারেশনের কাটা জায়গায় হয়।
5. হাইয়াটাল হার্নিয়া – পাকস্থলীর অংশ ডায়াফ্রামের ভেতর চলে যায়।
---
🛡️ হার্নিয়ার চিকিৎসা
প্রাথমিক চিকিৎসা: হালকা হার্নিয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওজন কমানো এবং ভারী কাজ এড়িয়ে চলা উপদেশ দেয়া হয়।
অস্ত্রোপচার (Surgery): স্থায়ী চিকিৎসা হলো সার্জারি। দুটি প্রধান পদ্ধতি হলো –
ওপেন সার্জারি (Open Surgery)
ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি (Laparoscopic Surgery)
স্ট্র্যাংগুলেটেড হার্নিয়া হলে অবিলম্বে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়।
---
👨⚕️ হার্নিয়া প্রতিরোধে করণীয়
অতি ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন।
দীর্ঘদিন কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
অতিরিক্ত ওজন কমান।
সুষম খাবার খেয়ে হজম শক্তি ভালো রাখুন।
পেটের ব্যায়াম ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন।
---
✅ উপসংহার
হার্নিয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও অবহেলা করলে জটিল আকার ধারণ করতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক জীবনযাপন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
---
