![]() |
| এইডসের কারণ ও সংক্রমণ পথ |
এইডস (AIDS) এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome। এটি একটি প্রাণঘাতী রোগ যা এইচআইভি ভাইরাস (HIV – Human Immunodeficiency Virus) দ্বারা সৃষ্টি হয়। এইচআইভি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে শরীর সামান্য সংক্রমণ বা অসুখের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে পারে না।
---
⚠️ এইডসের কারণ ও সংক্রমণ পথ
এইডস সাধারণত নিচের উপায়ে ছড়ায়:
অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে
আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ব্যবহার করলে
একই সিরিঞ্জ বা সুচ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার করলে
আক্রান্ত মা থেকে নবজাতকের শরীরে (গর্ভকালীন, প্রসবকালীন বা স্তন্যপানকালে)
দূষিত চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে
👉 মনে রাখবেন, এইডস ছোঁয়াচে নয়। একসাথে খাওয়া-দাওয়া, হাত মেলানো বা আলিঙ্গনের মাধ্যমে এটি ছড়ায় না।
---
🩺 এইডসের লক্ষণ
প্রাথমিকভাবে এইচআইভি আক্রান্ত হলে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে সময়ের সাথে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন:
সবসময় দুর্বলতা ও ক্লান্তি
দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
বারবার জ্বর, ঠান্ডা ও ঘাম হওয়া
লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া
ডায়রিয়া দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়া
মুখে ও ত্বকে সংক্রমণ
বারবার সংক্রমণ (যেমন: নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা)
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া
---
🧬 এইডসের জটিলতা
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হওয়ায় রোগী নানা গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়, যেমন:
যক্ষ্মা
নিউমোনিয়া
ক্যান্সারের কিছু ধরন
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর রোগ
---
🛡️ এইডসের চিকিৎসা
বর্তমানে এইডসের স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তবে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) ওষুধের মাধ্যমে রোগীর জীবন দীর্ঘায়িত করা সম্ভব এবং ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
নিয়মিত ART ওষুধ গ্রহণ
সুষম খাবার খাওয়া
সংক্রমণ প্রতিরোধ করা
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা
নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
---
👨⚕️ এইডস প্রতিরোধে করণীয়
সবসময় সুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক বজায় রাখা
রক্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই পরীক্ষা করে নেয়া
ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ কখনো পুনরায় ব্যবহার না করা
গর্ভবতী মায়ের HIV টেস্ট করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
সচেতনতা বৃদ্ধি ও কুসংস্কার দূর করা
---
✅ উপসংহার
এইডস একটি মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ হলেও সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। সমাজে এইডস আক্রান্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি।
---
