![]() |
| জন্মের ১ মাস পর শিশুর যত্ন |
শিশুর জন্মের প্রথম এক মাস সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এ সময় মায়ের বুকের দুধ ও পরিচ্ছন্নতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। তবে জন্মের এক মাস পর শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ আরও দ্রুত হয়। তাই এ সময়ে কিছু বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
---
👶 জন্মের ১ মাস পর শিশুর শারীরিক যত্ন
১. বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো জরুরি। এক মাস পর থেকে শিশুর খাওয়ার সময় ও বিরতি একটু নিয়মিত হয়।
২. গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
শিশুকে সপ্তাহে ২–৩ দিন হালকা গরম পানিতে গোসল করান।
প্রতিদিন পরিষ্কার কাপড় পরান।
শিশুর নখ ছোট রাখুন যাতে আঁচড় না লাগে।
৩. ঘুম
১ মাস বয়সী শিশু দিনে গড়ে ১৪–১৬ ঘণ্টা ঘুমায়। তাই ঘুমের পরিবেশ শান্ত, আলো-হাওয়া যুক্ত এবং নিরাপদ রাখতে হবে।
---
🧠 মানসিক ও স্নায়বিক বিকাশ
১. চোখের যোগাযোগ
শিশুর চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। এতে তার স্নায়বিক বিকাশ হয়।
২. কথা বলা ও হাসি
এক মাস বয়স থেকে শিশু শব্দে প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। মৃদু কথা বলা ও খেলাধুলা তার জন্য উপকারী।
৩. হালকা ম্যাসাজ
হাত ও পায়ে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং শিশুর ঘুম শান্ত হয়।
---
💉 টিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা
এক মাস বয়স থেকে শিশুর নির্দিষ্ট টিকা দিতে হবে, যেমনঃ
হেপাটাইটিস বি
পোলিও
ডিফথেরিয়া, পারটুসিস ও টিটেনাস (DPT)
নিয়মিত ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে শিশুর ওজন, উচ্চতা ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
---
⚠️ সতর্কতা
শিশুকে এখনো কোনো খাবার বা পানি দেওয়া উচিত নয়।
ধূমপান, ধুলাবালি ও জীবাণু থেকে দূরে রাখুন।
শিশুর জ্বর, অতিরিক্ত কান্না বা অস্বাভাবিক আচরণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
---
✅ উপসংহার
জন্মের এক মাস পর শিশুর যত্ন আরও বাড়াতে হয়। বুকের দুধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ঘুম, টিকা এবং স্নেহময় পরিবেশ শিশুর সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক যত্ন নিলে শিশু হবে সুস্থ ও সবল।
---
🔍
