![]() |
| নবজাতকের যত্নে কিছু সতর্কতা |
শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস তার জীবন সবচেয়ে নাজুক সময়ের মধ্যে থাকে। এ সময়ে সামান্য অবহেলা বা অসতর্কতা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নবজাতকের যত্নে মায়ের পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
---
👶 নবজাতকের যত্নে যে সতর্কতা মানা জরুরি
১. শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো
প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। কোনোভাবেই পানি, মধু বা অন্য কোনো খাবার দেওয়া যাবে না।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
শিশুর কাপড়-চোপড় সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
শিশুর বিছানা, বালিশ, তোয়ালে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
৩. ঘুম ও নিরাপত্তা
শিশুকে সবসময় সমতল ও নিরাপদ স্থানে শোয়াতে হবে।
উঁচু বিছানা বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে একা ফেলে রাখা যাবে না।
শিশুর মাথা ও ঘাড় সঠিকভাবে সাপোর্ট দিতে হবে।
৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
নবজাতক সহজে ঠান্ডা ও গরমে আক্রান্ত হয়। তাই শিশুকে সবসময় আরামদায়ক পরিবেশে রাখতে হবে। হালকা ও নরম কাপড় ব্যবহার করা ভালো।
৫. ভিড় ও জীবাণু থেকে দূরে রাখা
নবজাতককে অযথা অনেক লোকের মাঝে নেওয়া ঠিক নয়।
অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আনা যাবে না।
৬. টিকা সময়মতো দেওয়া
জন্মের পর থেকেই শিশুর টিকাদান শুরু হয়। তাই নিয়ম মেনে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে শিশুকে রোগ প্রতিরোধী শক্তি দেওয়া সম্ভব।
৭. চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
শিশুর জ্বর, অতিরিক্ত কান্না, খাওয়ায় অনীহা বা শ্বাসকষ্ট হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
---
⚠️ যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
শিশুকে গোসল করানোর সময় খুব ঠান্ডা বা গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না।
মায়ের বুকের দুধের পরিবর্তে বোতলের দুধে নির্ভর করা ঠিক নয়।
শিশুর গায়ে তেল, সাবান বা প্রসাধনী বেশি ব্যবহার করা ক্ষতিকর হতে পারে।
নবজাতককে বালিশ বা বেশি কাপড়ে জড়িয়ে রাখা উচিত নয়, এতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
---
✅ উপসংহার
নবজাতকের যত্ন নিতে হলে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। মায়ের দুধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পরিবেশ ও সময়মতো টিকা শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অপরিহার্য। অল্প বয়সেই সঠিক যত্ন পেলে শিশুর ভবিষ্যৎ হবে আরও সুস্থ ও সুন্দর।
---
🔍
