আযানের দোয়া
আযানের পর নিম্নলিখিত দোয়া পাঠ করতে হয়। আযানের পর দরুদ শরিফ পড়ে এই দোয়া পড়া সুন্নত।
اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّآمَّةِ، وَالصَّلٰوةِ الْقَآئِمَةِ، اٰتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ، وَالدَّرَجَةَ الرَّفِيْعَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدَانِ الَّذِىْ وَعَدْتَّهٗ، وَارْزُقْنَا شَفَاعَتَهٗ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ، اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দা'ওয়াতিত তা'ম্মাহ্। ওয়াছছালাতিল ক্বা'য়িমাহ্। আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদ্বীলাহ্। ওয়াদ্দারাজাতার রাফিআহ্। ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়াততাহ্। ওয়ারজুক্বনা শাফাআতাহু ইয়াওমাল কিয়ামাহ্। ইন্নাকা লা তুখলিফূল মী-আ'দ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহবান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাঃ) কে ওসীলা তথা জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শাফাআত নসীব কর। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। (মুসলিম, হাঃ ৭৩৫, বুখারি, হাঃ ৬১৪, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ইবনুস সুন্নী, হাঃ ৯৯, মুজামুল কবির, হাঃ ৯৭৯০, ১২৫৫৪, বায়হাকী, হাঃ ২০০৯)
যাদের জন্য আযানের উত্তর প্রদান জরুরী নয়
আযানের বাক্য যাদের কানে যাবে, তাদেরকেই উত্তর প্রদান করতে হবে এমন নয়। নির্দিষ্ট কিছু লোক এর উত্তর প্রদান হতে বিরত থাকবে। যেমন-
১. নামাযরত ব্যক্তি।
২. পবিত্র কুরআন পাঠরত ব্যক্তি।
৩. খুতবা পাঠকারী ও শ্রবণকারী।
৪. প্ৰস্রাব পায়খানা থাকাকালীন।
৫. হায়েয নেফাছ ওয়ালী মহিলা।
৬. খাবার সময়।
৭. স্ত্রী সহবাসের সময়।
৮. অপবিত্র অবস্থায় যাদের উপর গোসল ফরয।
যেখানে আযান দেয়া সুন্নাত
১. নবজাতক শিশুর কানে।
২. ভীষণ ঝড় ও তুফানের সময়।
৩. ভয়ের সময়।
৪. মৃগী রোগীর কানে।
৫. ভূত, পেত্নী আক্রান্ত লোকের কানে।
৬. সজ্ঞাহীন ব্যক্তির কানে।
৭. আগুন লাগলে।
৮. যে মূসাফির দল হতে হারিয়ে যায় তাকে দলে ফিরে আনার জন্য।
৯. প্রচন্ড যুদ্ধ ও শত্রুর হামলার সময়।
ইকামত
ইকামত অর্থ প্রতিষ্ঠা করা, প্রতিষ্ঠিত হওয়া, শুরু হওয়া ইত্যাদি। যেহেতু ইকামতের দ্বারা নামায শুরু তথা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেহেতু একে ইকামত বলা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমআর নামাযের ফরয নামায আদায় করার পূর্বে ইকামত দিতে হয়, ইকামতের শব্দগুলো আযানের বাক্যের অনুরূপ, শুধুমাত্র ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ' বলার পর ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ' (قَدْ قَامَتِ الصَّلَوة) দু'বার বলতে হবে। ইকামতের সময় কানের ছিদ্র বন্ধ করার প্রয়োজন নেই এবং ডানে-বামে, মুখ ফিরাবারও দরকার নেই। আর আযানের মত উচ্চকষ্ঠেও বলতে হয় না। আজানের মতো মুসল্লিদের একামতের জবাব দেওয়াও মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৫৭) একামতের জবাবও আজানের অনুরূপ। শুধু একামতের মধ্যে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’-এর জবাবে ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ (اَقَامَهَا اللهُ وَاَدَامَهَا) বলবে। (আবূ দাউদ, হাঃ ৫২৮, সহীহ মুসলিম, হাঃ ৭৩৬)