নামাজের গুরুত্ব ও ফযীলত

নামাযের গুরুত্ব

নামাযের গুরুত্ব এত অধিক যে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা অন্যান্য হুকুম আহকামের মত নামাযকে জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে প্রেরণ করেন নি স্বয়ং রাসূল (সঃ) কে নিজের কাছে নিয়ে তা বান্দাহর মুক্তির জন্য উপহার স্বরূপ দিয়েছেন। নামাযের মাধ্যমেই বান্দাহ মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে এবং পরকালে পেতে পারে মুক্তি। কেননা মহান আল্লাহ বলেন-


তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ১১০) তিনি আরো বলেন-


হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা হাজ্জ্ব, আয়াতঃ ৭৭)


রাসূল (সঃ) বলেছেন, নামায বেহেশতের চাবিকাঠি। (তিরমিজী, হাঃ ৪) সুতরাং দুনিয়া থেকে চাবি তৈরি করে না গেলে কখনো বেহেশতের দরজার তালা খোলা সম্ভব হবে না। অতএব, সকলেরই কর্তব্য মহান আল্লাহকে খুশি করার মাধ্যমে পরকালের কঠিন আযাব থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে, নামাযের প্রতি যথাযথ যত্নবান হওয়া।

নামাযের ফযীলত

নামাযের শরীয় মান ঈমান বা কালেমার পরেই নির্দিষ্ট হওয়ার কারণ এই যে, নামাযের মর্যাদা এবং ফযীলত অন্যান্য যে কোন ইবাদত থেকে অধিক। নামাযের মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালা (স্রষ্টা) এবং বান্দার (সৃষ্টি) মাঝে সম্পর্ক যেরূপ পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে, অন্য কোন ইবাদতেই তা পরিলক্ষিত হয় না। এ কারণেও নামায যাবতীয় ইবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। নামায আদায় করার জন্য মহান আল্লাহ তা’য়ালা কুরআন মজিদে এত অধিক নির্দেশ দিয়েছেন, ততাে আর কোন ইবাদত সম্পর্কে দেননি। রাসূলে আকরাম (সঃ) জীবনের শেষ মুহূর্তেও এ নামাযের কথাই বার বার তাগিদ দিয়েছেন। নামাযের মধ্যে বান্দার ইহলৌকিক এবং পারলৌকিক দু’রকম কল্যাণই নিহীত রয়েছে। নামায মানুষের চরিত্র সংশোধন করে এবং প্রকৃত মনুষ্যত্বের দিকে পরিচালিত করে এ কথাই মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কালামে ঘোষণা করেছেন-


নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবূত, আয়াতঃ ৪৫)


নামায আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’য়ালাকে সর্বক্ষণ স্মরণ রাখা যায়। যেমন মহান আল্লাহ তা’য়ালাই কুরআন পাকে বলেছেন, তোমরা আমাকে স্মরণ রাখার জন্য নামায আদায় কর। (সূরা ত্বহা, আয়াতঃ ১৪)


প্রকৃতপক্ষে নামায মানুষকে সাফল্যের চরম শিখরে নিয়ে যায়। এতে মানুষের ইহকাল ও পরকাল চরম সার্থক এবং পরম কল্যাণকর হয়। এ সম্পর্কেও মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন। যথা-


মুমিনরা অবশ্য সাফল্যলাভ করেই চলছে, যারা স্বয়ং তাদের নামাযে বিনয়-নম্র হয়। (সূরা আল মু'মিনূন, আয়াতঃ ১-২)


রাসূলে আকরাম (সঃ) নামায সম্পর্কে অসংখ্য হাদীসে বর্ণনা করেছেন। কোন এক হাদীসে আছে-


যে ব্যক্তি নামাজের ইহতেমাম করে, তার জন্য নামাজ কিয়ামতের দিন নূর হবে ও হিসাবের সময় দলীল হবে ওবং নাজাতের উপায় হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের ইহতিমাম করে না, কিয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য নূর হবে না, আর তার নিকট কোন দলীলও থাকবে না এবং নাজাতের জন্য কোন উপায়ও হবে না। এমন ব্যক্তির হাশর হবে ফেরআউন, হামান ও উবাই ইবনে খলফের সাথে। (মুসনাদে আহমদ, হাঃ ৬৫৭৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ১৪৬৭)


অন্য এক হাদীসে এসেছে, মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করে, তখন তার থেকে পাপসমূহ ঝরে পড়ে; যেমন এ গাছের পাতা ঝরে পড়ছে। (মুসনাদে আহমদ, হাঃ ২১৫৯৬)


এ মর্মে হাদীসে এসেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুময়া থেকে পর জুময়া পর্যন্ত এবং এক রমযান থেকে পর রমযান পর্যন্ত সময়ের সমস্ত (ছগীরা) গুনাহ মােচন করে দেয়, যদি কবীরা গুনাহ থেকে দূরে থাকে। (সহীহ মুসলিম, হাঃ ৪৩৮)


অন্য আর এক হাদীসে এরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, বল দেখি যদি কোন ব্যক্তির দরজার সামনে একটি নহর প্রবাহিত থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে তার শরীরে কি কোন ময়লা বাকী থাকবে? সাহাবাগন আরজ করলেন, কিছুই বাকী থাকবে না। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অবস্থাও এরকমই যে, আল্লাহ তাআলা তার বদৌলতে গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন। (তিরমিজী, হাঃ ২৮৬৮)


নামাযের ফযীলতে উল্লেখিত কুরআন হাদীসের দলিলসমূহ ছাড়া বিবেক বৃদ্ধি দ্বারা পার্থিব দৃষ্টিতে বিচার করলেও নামাযের গুরুত্ব এবং মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!