![]() |
| আলসারের কারণ |
আলসার (Ulcer) হলো শরীরের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কোনো অংশে টিস্যুর ক্ষয় বা ক্ষতের সৃষ্টি হওয়া। সবচেয়ে সাধারণ হলো পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer), যা পাকস্থলী বা ছোট অন্ত্রের লাইনিংয়ে হয়।
---
⚠️ আলসারের কারণ
হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ – সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা স্টেরয়েড ব্যবহার – দীর্ঘদিন ব্যবহারে পাকস্থলীর লাইনিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস – অতিরিক্ত ঝাল, তৈলাক্ত ও ফাস্টফুড।
স্ট্রেস ও মানসিক চাপ – পাকস্থলীর অ্যাসিড স্রাব বাড়ায়।
ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন – ক্ষতি বাড়ায়।
---
🩺 আলসারের লক্ষণ
পেটে ব্যথা, অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া (বিশেষ করে খালি পেটে)
বমি বা বমি ভাব
ওজন কমে যাওয়া
খাওয়ার পর ফোলা বা অস্বস্তি
কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
রক্তমিশ্রিত বমি বা মল
---
🧬 আলসারের প্রকারভেদ
1. গ্যাস্ট্রিক আলসার (Gastric Ulcer) – পাকস্থলীতে হয়।
2. ডুওডেনাল আলসার (Duodenal Ulcer) – ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে হয়।
3. স্ট্রেস আলসার (Stress Ulcer) – গুরুতর মানসিক চাপ বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে হয়।
4. ড্রাগ-ইনডিউসড আলসার (Drug-Induced Ulcer) – ওষুধের কারণে হয়।
---
🛡️ আলসারের চিকিৎসা
ডায়েট ও জীবনধারার পরিবর্তন: ঝাল, তৈলাক্ত ও ফাস্টফুড কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো।
ওষুধ: অ্যান্টিবায়োটিক (হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণের জন্য), প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) বা অ্যান্টাসিড।
গুরুতর ক্ষেত্রে সার্জারি: খুব কম ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।
---
👨⚕️ আলসার প্রতিরোধে করণীয়
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খাওয়া।
অতিরিক্ত ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়ানো।
নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ।
কোষ্ঠকাঠিন্য বা জ্বালাপোড়া থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
ওষুধ ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে পরামর্শ নেওয়া।
---
✅ উপসংহার
আলসার একটি সাধারণ কিন্তু উপেক্ষা করলে জটিল সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে আলসার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
---
