![]() |
| যক্ষ্মার কারণ |
যক্ষ্মা (Tuberculosis – TB) হলো একটি সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত ফুসফুসকে প্রভাবিত করে, তবে শরীরের অন্য অংশেও ছড়াতে পারে। এই রোগের কারণ হলো মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস (Mycobacterium tuberculosis)।
---
⚠️ যক্ষ্মার কারণ
সংক্রামিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো জীবাণু শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা।
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অপুষ্টি।
ঘনবসতি বা অপরিষ্কার পরিবেশে বসবাস।
HIV বা অন্য রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।
---
🩺 যক্ষ্মার লক্ষণ
দীর্ঘস্থায়ী কাশি (৩ সপ্তাহের বেশি)
রক্তযুক্ত কফ বা হাঁচি
জ্বর, রাতের ঘাম
ক্ষয় হওয়া ও ওজন কমে যাওয়া
দুর্বলতা, ক্লান্তি ও খাবারের অনীহা
ফুসফুসের বাইরের যক্ষ্মা হলে স্থানীয় ফোলা বা ব্যথা
---
🧬 যক্ষ্মার ধরন
1. ফুসফুসের যক্ষ্মা (Pulmonary TB) – সবচেয়ে সাধারণ, বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
2. ফুসফুসের বাইরে যক্ষ্মা (Extrapulmonary TB) – কিডনি, হাড়, লিঙ্গ, লিম্ফ নোড প্রভৃতি স্থানে হয়।
3. মাল্টিড্রাগ রেসিস্ট্যান্ট TB (MDR-TB) – ওষুধ প্রতিরোধী ধরণ, চিকিৎসা কঠিন।
---
🛡️ যক্ষ্মার চিকিৎসা
প্রাথমিক চিকিৎসা: ডাক্তার পরামর্শে ৬–৯ মাস ধরে অ্যান্টি-টিউবারকুলার ওষুধ গ্রহণ।
ওষুধের সময়মতো ব্যবহার: সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা জরুরি।
পুষ্টিকর খাবার: রোগীর শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে।
গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসা ও নজরদারি।
---
👨⚕️ যক্ষ্মা প্রতিরোধে করণীয়
সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনভাবে দেখা বা কথা বলার সময় সতর্ক থাকা।
মাস্ক ব্যবহার করা।
ঘর বাতাসময় ও পরিষ্কার রাখা।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভ্যাকসিন (BCG) গ্রহণ করা।
শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা।
---
✅ উপসংহার
যক্ষ্মা একটি সংক্রামক ও মারাত্মক রোগ, তবে সঠিক চিকিৎসা, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
---
