![]() |
| চিকন গুনিয়ার কারণ |
চিকন গুনিয়া (Chikungunya) হলো একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এটি সাধারণত হঠাৎ জ্বর, জয়েন্ট ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে।
---
⚠️ চিকন গুনিয়ার কারণ
চিকন গুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণ।
এডিস মশার কামড়, বিশেষত দিনে সক্রিয় মশা।
আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে মশা কামড়ালে ভাইরাস ছড়ায়।
মনে রাখবেন: চিকন গুনিয়া সাধারণভাবে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি সংক্রমিত হয় না।
---
🩺 চিকন গুনিয়ার লক্ষণ
হঠাৎ জ্বর, সাধারণত ১০৩–১০৪°F (৩৯–৪০°C) পর্যন্ত
জয়েন্ট ও মাংসপেশীতে ব্যথা
মাথা ব্যথা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা
ত্বকে ফুসকুড়ি বা র্যাশ
চোখ লাল হওয়া বা জ্বালা
বমি ভাব বা হালকা শ্বাসকষ্ট (কিছু ক্ষেত্রে)
---
🧬 চিকন গুনিয়ার প্রক্রিয়া
1. ইনকিউবেশন পিরিয়ড: মশার কামড়ের ২–১২ দিন পরে লক্ষণ দেখা দেয়।
2. প্রাথমিক পর্যায়: হঠাৎ জ্বর, মাথা ব্যথা, জয়েন্ট ব্যথা।
3. উন্নয়ন পর্যায়: ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া, ক্লান্তি।
4. পুনরুদ্ধার: ১–২ সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত সুস্থ হয়ে যায়, তবে জয়েন্ট ব্যথা মাসের পরও থাকতে পারে।
---
🛡️ চিকন গুনিয়ার চিকিৎসা
প্রাথমিক চিকিৎসা: প্রচুর পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া।
ওষুধ: ব্যথা কমানোর জন্য পেইনকিলার (প্যারাসিটামল) – ডাক্তারের পরামর্শে।
অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, কারণ এটি ভাইরাসজনিত।
জ্বর বা ফুসকুড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা।
---
👨⚕️ চিকন গুনিয়া প্রতিরোধে করণীয়
মশা নিয়ন্ত্রণ: এডিস মশার আবাসস্থল ধুলো-মাটি থেকে পরিষ্কার রাখা।
মশার জাল ও কভারিং ব্যবহার – ঘরে মশারি ব্যবহার করা।
লম্বা হাতা জামা ও প্যান্ট পরা – কামড় কমাতে।
স্ট্যান্ডিং ওয়াটার দূর করা: মশার বংশবিস্তার রোধ করতে।
সচেতনতা: জ্বর বা ফুসকুড়ি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
---
✅ উপসংহার
চিকন গুনিয়া একটি সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ, যা মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। ঘরোয়া যত্ন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে জ্বর বা জয়েন্ট ব্যথা গুরুতর হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
---
