![]() |
| কুষ্ঠ রোগের কারণ |
কুষ্ঠ রোগ (Leprosy) একটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক ব্যাধি, যা মূলত Mycobacterium leprae নামক জীবাণুর কারণে হয়। এটি মানুষের ত্বক, স্নায়ু, শ্বাসনালী ও চোখে প্রভাব ফেলে। প্রাচীনকালে কুষ্ঠকে ভয়ঙ্কর ও অপ্রতিরোধ্য রোগ মনে করা হলেও বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
---
🦠 কুষ্ঠ রোগের কারণ
জীবাণু: Mycobacterium leprae নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে কুষ্ঠ রোগ হয়।
সংক্রমণ: এটি সাধারণত দীর্ঘসময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের মাধ্যমে ছড়ায়।
ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা: যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
---
⚠️ কুষ্ঠ রোগের লক্ষণ
1. ত্বকে সাদা বা লালচে দাগ যা অনুভূতিহীন হয়ে যায়।
2. হাতে-পায়ে অবশভাব ও ঝিঁঝিঁ ধরা।
3. ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া।
4. হাত-পায়ের আঙুল বিকৃত হয়ে যাওয়া।
5. চোখের সমস্যা (চোখ শুকিয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস)।
6. নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
---
👥 কুষ্ঠ রোগ কাদের ঝুঁকি বেশি
যাদের পরিবারে আগে কুষ্ঠ রোগী ছিল।
দীর্ঘসময় রোগীর কাছাকাছি বসবাস করলে।
পুষ্টিহীনতা ও দুর্বল ইমিউন সিস্টেমে আক্রান্তরা।
---
💊 কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা
বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কুষ্ঠ রোগের জন্য MDT (Multi Drug Therapy) নামক ওষুধের সমন্বিত চিকিৎসা চালু করেছে, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
৬ মাস থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ওষুধ সেবনে রোগ সম্পূর্ণ সেরে যায়।
সময়মতো চিকিৎসা নিলে অঙ্গ বিকলাঙ্গ হওয়া বা স্থায়ী ক্ষতি হয় না।
---
✅ কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধের উপায়
1. রোগীকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া।
2. রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়ানো।
3. পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।
4. সময়মতো রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করা।
---
🟢 উপসংহার
কুষ্ঠ রোগ কোনো অভিশাপ নয়, এটি একটি সাধারণ সংক্রামক রোগ।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে কুষ্ঠ পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। সমাজে কুষ্ঠ রোগীদের প্রতি বৈষম্য না করে সহানুভূতি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।---
🟢
