![]() |
| কিডনির রোগ ও কারণ |
কিডনি মানুষের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি রক্ত শুদ্ধকরণ, পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বর্জ্য পদার্থ বের করার কাজ করে। কিডনি সুস্থ না থাকলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গও প্রভাবিত হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
---
🩺 কিডনির সাধারণ রোগসমূহ
১. কিডনি পাথরি (Kidney Stones)
কিডনিতে কঠিন খনিজ জমে পাথরের সৃষ্টি হয়।
ব্যথা, রক্তযুক্ত প্রস্রাব এবং বারবার প্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছা দেখা দিতে পারে।
২. ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)
কিডনির ক্রমবর্ধমান ক্ষতি যা ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমায়।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা এর মূল কারণ।
৩. ইউটিআই (Urinary Tract Infection)
ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
কিডনি সংক্রমণ হলে জ্বর, কাঁপুনি এবং কোমরের ব্যথা হতে পারে।
৪. অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (AKI)
হঠাৎ করে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
ডিহাইড্রেশন, তীব্র সংক্রমণ বা ওষুধের প্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে।
---
⚠️ কিডনির রোগের কারণ
১. উচ্চ রক্তচাপ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২. ডায়াবেটিস
উচ্চ রক্তের শর্করা কিডনির ফিল্টারিং ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৩. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কিডনির জন্য ক্ষতিকর।
৪. অপর্যাপ্ত পানি পান
পানি কম পান করলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৫. ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার
কিছু পেইনকিলার ও অ্যান্টিবায়োটিক কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
৬. ধূমপান ও অ্যালকোহল
রক্তনালীতে ক্ষতি, যা কিডনির কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
---
🥗 কিডনির রোগ প্রতিরোধের টিপস
1. দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন।
2. লবণ ও চিনি কম খান।
3. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন – শাক-সবজি, ফল, বাদাম ও ডাল।
4. নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
5. ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
6. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
7. মানসিক চাপ কমান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
---
উপসংহার
কিডনির রোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অপরিহার্য। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অনিয়মিত খাদ্য, অপর্যাপ্ত পানি এবং ধূমপান কিডনির ক্ষতির প্রধান কারণ। সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিডনিকে সুস্থ রাখে এবং দীর্ঘজীবনের নিশ্চয়তা দেয়।
---
🟢
